Best of Gopal Bhar Short Story in Bengali

Short Story of Gopal Bhar| গোপাল ভাঁড়ের গল্প|


This is a blog about best Short story for kids. Where I share Best short story of Gopal Bhar.
এই ব্লগটি তে গোপাল ভাঁড়ের কয়েকটা ছোট গল্প সেয়ার করলাম আশা করি ভাল লাগবে

1. অর্ধ ভোজনে অর্ধ দক্ষিণা দান


এক হোটেলে হোটেলওয়ালা ও তার কোন বন্ধুর সঙ্গে কথাবার্তা হচ্ছিল, এমন সময় দেখে যে গোপাল হোটেলের সামনে দাঁড়িয়ে। ওই বন্ধুটি হোটেলের বন্ধুকে বলল, ওই লোকটাকে জব্দ করতে পারবে? হোটেলওয়ালী বলল এ এমন কি?
রাস্তায় হোটেলের সামনে দাঁড়িয়ে গোপাল এক বন্ধুর জন্যে অপেক্ষা করছিল। হোটেলে মাংস-রান্না হচ্ছে। হঠাৎ হোটেলওয়ালা গোপালকে জব্দ করার জন্য ছুটে এসে তাকে বললে, মশাই। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মাংসের গন্ধ শুঁকছেন নিশ্চয়ই দাম দিন শিগগির। গোপাল তো অবাক। কতক্ষণ পর বিস্ময়টা কাটিয়ে উঠে বললে তোমার মাংসের গন্ধ শোঁকবার জন্যে আমি এখানে দাঁড়াইনি। দাঁড়িয়েছি, এক বন্ধুর জন্য অপেক্ষা করছি ওর দরকারের জন্য। রাস্তাটা তো তোমার হোটেলের ইজারা মহল নয়। রাস্তাটা সরকারের অতএব, তোমার বলার কিছু নেই।
হোটেলওয়ালা ঝাঁজের সঙ্গে বললে তা’তে কি হয়েছে? ঘ্রাণেন অর্দ্ধ-ভোজনং। গন্ধ শুঁকলেই অর্দ্ধেক খাওয়া হলো। এক ডিশ মাংসের দাম আট আনা, তার অর্দ্ধেক চার আনা আপনাকে দিতে হবে।
তখন আট আনাতেই বড় এক প্লেট মাংস পাওয়া যেত। গোপাল চার আনার একটি সিকি পকেট থেকে বার করে হোটেলওয়ালার কানের কাছে ঠং ঠং করে বাজালে বারকতক। তারপর আবর সেটিকে পকেটে রেখে দিয়ে বললে ঘ্রাণে যদি অর্দ্ধেক-খাওয়া হয়, তবে শ্রবণেও অর্দ্ধেক পাওয়া হয়েছে। পয়সার বাদ্যি শুনেছো। গন্ধ-শোঁকার সঠিক দাম পাওয়া গেছে তোমার।
কথা কাটাকাটি শুনে সেখানে যেসব পথচারী দাঁড়িয়ে ভিড় করেছিলেন, তারা হেসে উঠলো হো হো কর। হোটেলওয়ালা মুর্খের মত জবাব পেয়ে মুখটি চুর্ন করে হোটেলের ভিতর চলে গেল গোপালের উপর টক্কর দেওয়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু গোপালকে জব্দ করতে এসে নিজেই জব্দ হয়ে গেল জব্বর ভাবে।

2.  অসুখ সেরে গেছে হুজুর 


গোপালের প্রখর ভাবে স্মৃতি-শক্তি ছিল। ভালভাবে বলতে হলে বলা যায় অসাধারণ। তার মনের পর্দায় যেন সবকিছু ছাপা হয়ে যায় অবিকল। হাবভাব এমনকি কথার টুকিটাকিও। সাধারণ মানুষের মধ্যে অমন স্মৃতি-শক্তি থাকার কথা নয়। একবার নিশ্চিব্দি পুরের জমিদার ঘোড়ায় চড়ে যেতে যেতে না পাড়ায় মোড়ে গোপালকে দেখেতে পেয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন গোপাল তোমার অসুখ সেরেছে তো?
গোপাল কোন জবাব দেওয়ার আগেই জোর কদমে ঘোড়া ছুটিয়ে নিশ্চিব্দি পুরের জমিদার সেদিন ওখান থেকে চলে গিয়েছিলেন। ঐ ঘটনার সাত আট বছর পরে, আবার নপাড়ার মোড়েই গোপালের সঙ্গে নিশ্চিন্দি পুরের জমিদারের হঠাৎ দেখা হয়ে গেল। এবার কিন্তু জমিদার পাল্কি করে যাচ্ছিলেন। ভীষণ গরম পড়ে ছিল বলে পাল্কির দরজা খোলাই ছিল। হাওয়া লাগার জন্য জমিদার নতুন করে প্রশ্ন করা আগেই সেই সাত আট বছর আগেকার প্রশ্নের জবাব দিল, আমার অসুখ সেরে গেছে হুজুর। এখন আমি ভাল আছি।
জমিদার এ কথার মানে না বুঝতে পেরে, অবাক হয়ে গোপালের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন। কিছুক্ষণপরে যখন কথাটার মানে বুঝতে পারলেন তখন হো হো করে হেসে উঠে বললেন, ধন্যি গোপাল তোমার দ্বারাই এটা সম্ভব। ঠিক মনে রেখেছ …


3. আগে ফাউ


গোপাল একবার হাটে আলু কিনতে গিয়েছিল। পথেই দেখা হল এক বন্ধুর সাথে। রসিক বন্ধুটি গোপালের আলু খরিদ করার কথা শুনে বলল, তুমি যদি আলু বিনি পয়সায় খরিদ করতে পার দশ টাকা পুরষ্কার পাবে। গোপালকে বন্ধুটি রসিকতা করার লোভে একটু উসকে দিল। মনে করেছিল গোপাল পারবে না।
গোপাল বন্ধুকে বললে, ও এই কথা? তুমি আমার সাথে হাটে চল দেখবে, দিব্যি বিনি পয়সায় আলু কিনে নিয়ে বাড়ি ফিরব। কাউকেও কোনও পয়সা দিব না। তা তুমি সচক্ষে দেখতে পারবে।
হাটে গিয়ে গোপাল প্রত্যেক আলু বিক্রেতাকে জিজ্ঞেস করলে ভাই, আমি যদি তোমার কাছে থেকে পাঁচ সের আলু কিনি, কটা আলু ফাউ দেবে তুমি আমাকে বল? শীতের সময় সেদিন বাজারে আলুর প্রচুর আমদানি। আলুওয়ালারা বললে পাচঁটা করে আলু ফাউ পাবেন পাঁচ সের আলু কিনলে। এর বেশি দিতে পারব না।
গোপাল তখন প্রত্যেক আলুওয়ালার ঝুড়ি থেকে পাঁচটা করে আলু তুলে নিয়ে বলল, এই হাটে কেবল ফাউটা নিলাম, সামনের হাটে তোমাদের সকলের কাছ থেকে পাঁচ সের করে আলু কিনব।
সকলেই হ্যা করে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখল। গোপাল দিব্যি বিনি পয়সার আলু কিনে বাড়ি ফিরল।
বন্ধুকে বাধ্য হয়েই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গোপালকে দশ টাকা পুরষ্কার দিতে হল। না দিলে হয়ত গোপাল কোনও সময় ১০০ টাকা হাতে তুলে নিয়ে হাওয়া করে দেবে। তার চেয়ে আগে দেওয়া ভাল।

4. আবার কবে আলুর গুদাম পুড়বে 


একবার এক আলুর গুদামে আগুন লেগেছিল। গোপাল সেই পথ দিয়ে যেতে যেতে তা দেখতে পেয়ে, একটা মুদির দোকান থেকে, একটু নুন চেয়ে নিল। তারপর সেই গুদামের পোড়া আলু, নুন সহযোগে দিব্যি খেতে লাগল। কিছু দুরে গুদামের মালিক মাথায় হাত দিয়ে বসেছিল। গোপাল নুন দিয়ে আরামে পোড়া আলু খেতে খেতে তার কাছে দিয়ে জিজ্ঞেস করলে, মশায় আপনি কে?
এরূপ দুঃখিত ভাবে মাথায় হাত দিয়ে বসেছেন কেন?
লোকটি বলল, আমি এই গুদামের মালিক। আমার চারটে আলুর গুদামের মধ্যে একটা পুড়ে সব শেষ হয়ে গেল। গ্রহের ফেরে খুব লোকসানের মধ্যে পড়ে গেলাম।
গোপাল নির্বিকারভাবে তাকে জিজ্ঞেস করলে, আচ্ছা আপনার বাদ-বাকি গুদাম যে তিনটি আছে সেগুলি কবে কবে পুড়বে বলতে পারেন? তাহলে আলু পোড়া খেতে পারব।
গোপালের কথা শুনে আলুর গুদামের মালিক, চটে উঠে লাঠি নিয়ে মারতে তাড়া করল। গুদাম পুড়ে যাওয়ায় বেচারার এমনিতেই মন মেজাজ খারাপ, তার উপর গোপালের এ হেন অলুক্ষণে কথা! বেগতিক দেখে গোপাল আর কোন কথা না বলে পালিয়ে বাঁচল। মনে মনে বলল বাবা বদমেজাজের চোটে সব আলূনি হয়ে গেল। তেল আক্রার এই বাজারে আলুভাজা বা আলুভাতের বদলে মুফতে আলু পোড়া খাওয়ার যে মজা সে কথা আর কোনদিন বলব না কোন বে আক্কেল ভদ্রলোককে।

5. ইলিশ মাছের রহস্য 


গঙ্গার ধারে একদিন কথাপ্রসঙ্গে মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র গোপালকে বললেন, আমাদের বাঙ্গালীর মধ্যে ইলিশ মাছ দেখলেই লোকে দাম জিজ্ঞাসা করে, এর কারণ কি?
গোপাল উত্তর দিল, এটা বাঙ্গালীর স্বভাব মহারাজ। তবে আমি যদি ইলিশ মাছ নিয়ে বাড়ী ফিরি আমাকে কেউ দাম জিজ্ঞাসা করবে না।
এ অসম্ভব, হতেই পারে না, লোকে দাম জিজ্ঞাসা করবেই! মহারাজ বললেন।
গোপাল মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রকে বললে, আমি নদীর ধার থেকে হাতে করে বাড়ি পর্যন্ত ইলিশ মাছ নিয়ে যাব, আমায় কেউ একবারও দাম জিজ্ঞেস করবে না। আমি হলফ করে বলতে পারি পরখ করে দেখতে পারেন………..
মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র বললেন, তা অসম্ভব! লোকালয় দিয়ে ইলিশা মাছ হাতে করে নিয়ে গেলে কেউ না কেউ তোমায়দাম জিজ্ঞাসা করবেই না করে পারেই না। আমি আজ পর্যন্ত সবসময়ই দেখে আসছি এবং শুনেও আসছি।
গোপাল আবার জোর গলায় বললে, ইলিশ নিয়ে আমি নদীর পাড় থেকে লোকের ভিড়ের মধ্য দিয়ে বাড়ি পর্যন্ত যাব, আমার কাছে একবাও কেউ দাম জিজ্ঞেস করবে না দেখতে পারেন।
মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের অন্য বন্ধুরা বললেন এ হতেই পারে না, দাম অবশ্যই জিজ্ঞেস করবে- না করে পারে না।
গোপাল বলল তর্কাতর্কি করে লাভ নেই, আমি হাতে হাতে প্রমাণ করতে চাই এবং গোপাল আরও বলল, আমি অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারি কিনা দেখুন।
মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র তখন গোপালকে বললেন, বেশ তুমি প্রকাশ্য রাজপথ দিয়ে ইলিশ মাছ হাতে করে বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে যাও। পথে যদি তোমাকে কেউ ইলিশ মাছের দাম না জিজ্ঞেস করে, তবে আমি তোমাকে একশো টাকা পুরষ্কার দেব। যদি একজনও তোমায় দাম জিজ্ঞেস করে, টাকাতো তুমি পাবেই না, উল্টো তোমার পচিশ যা চাবুক খেতে হবে। রাজী থাকো তো তুমি কাছে নামতে পার। পরে তো আমাকে দোষ দিতে পারবে না।
গোপাল বললে, বেশ আমি আপনার এ প্রস্তাবে রাজী আছি, দেখি পারি কিনা।
মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র জেলেদের কাছ থেকে গোপালের হাতে একটি বড় ইলিশমাছ কিনে দিলেন। ঠিক হলো মহারাজের তরফ থেকে দুজন বিশ্বাসি লোক সত্যাসত্য যাচাই করার জন্য গোপালের বাড়ি পর্যন্ত গোপালকে অনুসরণ করে পিছু পিছু যাবে। যাতে গোপাল ফাঁকি দিতে না পারে।
কথামতো ইলিশমাছ হাতে ঝুলিয়ে লোকালয়ে পা দোবার আগেই কিন্তু গোপাল একটা গাছের নিচে। পরণের কাপড়খানা পাগড়ির মতো করে মাথায় বেধে নিল। কপালে কিছু কাদা মেখে নিল, তারপর সেই বড় ইলিশমাছটি নিয়ে বাড়ির পথ ধরল এবং কোনও দিকে না তাকিয়ে চলে যেতে লাগল। তাই দেখে লোকে ভাবলো গোপাল পাগল হয়ে গেছে। নানা রকম ঠাট্টা বিদ্রুপ করল বটে, বাচ্চারা দুএকটা ঢিলও ছুড়ল কিন্তু পথের কোনও লোক তার কাছে একবারও ইলিশ মাছের দাম জিজ্ঞেস করল না।
বাড়ির কাছাকাছি এসেই গোপাল মাথা থেকে কাপড়টা খুলে নিয়ে কোমরে জড়িয়ে চট্ করে বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়লো। গোপালের পাগলামি দেখে এবং বাড়িতে ঢুকতে দেখে কিছুক্ষণ পরে মহারাজের বিশ্বাসি লোকেরা যে যার বাড়ি চলে গেল। মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র বিশ্বাসী সঙ্গীদের মুখে সব ব্যাপারটা শুনে অবাক ও হতবাক্ হয়ে গেলেন। তখন বাধ্য হয়ে তাকে প্রতিশ্রুতিঅনুযায়ী একশো টাকা পুরুষ্কার দিতে হলো। মহারাজের ধারণাই ছিল না যে গোপাল অসম্ভব কান্ড করবে!

6. উটকো লোক 


গোপাল একবার এক বড় মেলায় বেড়াতে গিয়েছিল। মেলায় গোপাল মেজাজে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। এমন সময় একটা উটকো লোক এসে গোপালকি জড়িয়ে ধরলো আচ্ছা দাদা কাশিতে মরলে লোক স্বর্গে যায় আর ব্যাস কাশীতে মরলে নাকি গাধা হয়। কিন্তু যারা কাশি ও ব্যাসকাশীর ঠিক মাঝখানে মরে, তারা কি হয়? আপনি বলতে পারেন দাদা আমার জানতে ইচ্ছে?
গোপাল বললে- মশায়, তারা আপনার মতো উটকো হয়। কথা নেই বার্তা নাই চেনা নাই শুনা নাই…. দুম করে জড়িয়ে ধরে প্রশ্ন। একে বলে উটকো লোক।

7. উলটো হলে বাবু 


গোপাল একটা নতুন ঘোড়া কিনেছে। গোপাল তাই নিজে সখ করে তার সাজ পরাতে গিয়েছে। নিজের পছন্দমত কোনমতে সাজ এঁটে দেওয়ার পর, একটা চাকর বলে উঠলো। বাবু সাজ উলটো হলো যে।
গোপালের নিজের মনেও সন্দেহ হচ্ছিল যে, তার হয়তো সাজ পরানো ঠিক হয়নি। কিন্তু তাই বলে চাকরে ভুল ধরবে? এ হতেই পারে না।
তিনি চটে বললেন কেন? উলটো হবে কেন রে বোকা? চাকর বললে, এ দিকটা থাকবে আপনার মুখের দিকে ও দিকটা থাকবে পিঠের দিকে। তাহলেই ঠিক হবে বাবু। গোপাল ধমকে বলল ব্যাটা ফাজিল মূর্খ। তুই কী করে জানলি, আমি কোন দিকে মুখ করে বসবো তুই যেন সবজান্তা হয়ে বসে আছিস্? গোপাল কোনমতে ছোট হতে পারছিল না।


8. এক বিদেশী পথিক 


এক বিদেশী পথিক রাত্রে অজানা জায়গায় এসে পড়েছে। তার উপর বৃষ্টি ও ঝড় নামল খুব জোরে। এই ঘন অন্ধকারে মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। এ সময় কোথায় আশ্রয় না নিলে নয়। সে পথের ধারে এক বাড়ির দরজায় বার বার আঘাত করতে লাগল। এ গৃহ-স্বামীটি হচ্ছেন গোপাল। তিনি উপর থেকে জানালা খুলে জিজ্ঞেস করলেন, কে হে বাপু তুমি? এত রাতে কড়া নাড়ানাড়ি করছ কেন? পথিক। আজ্ঞে আমি বহুদূর থেকে আসিয়াছি, বিদেশি পথিক। গোপাল। এখানে আপনার কি চাই? পথিক। রাত্রিটা এখানে থাকতে চাই মহাশয়। গোপাল। তা থাকতে পারো এখানে। তার জন্য আমাকে ডাকবার কোন দরকার ছিল না তো। ওটা সরকারী রাস্তা, যে কেউ ওখানে থাকতে পারে। বাড়ির বাইরের এই আশ্রয়টুকুর জন্য প্রার্থনার কোন প্রয়োজনই বা কী? না না, আমার কোন আপত্তিই নাই। তুমি নিশ্চিন্ত মনে থাকতে পার। কিন্তু পরে সেই পথিককে আদর করে ঘরে ডেকে নিয়ে খেতে ও আশ্রয় দিয়ে এবং শুকনো কাপর চোপড় দিয়ে তার সেদিন বহু উপকার করে ছিল।

9. এখন এটা দেখছি ছুচোঁ


এখন বাবা তামাক খাচ্ছেন। গোপাল কলকে পাবার আশায় বসে আছে। গোঁসাই মাঝেমাঝে এমন জোরে টান দিচেছন যে তাতে গোপালের মনে হচ্ছে, এই বুঝি এবার গোঁসাইয়ের তামাক খাওয়া শেষ হলো। সে অমনি হাত বাড়াচ্ছে কলকের জন্যে। কিন্তু গোঁসাই এর তামাক খাওয়া আর শেষ হয় না।
শেষে গোঁসাইবাবা বলে উঠলেন কি হে! বারে বারে বেড়ালের মত থাবা বাড়াও কেন? কিছু দেখছ নাকি?
গোপাল বললে-ইদুর ভেবে হাত বাড়িয়েছিলাম। কিন্তু এখন দেখছি এটা ছুঁচো-ছাড়া আর কিছু নয়।
গোঁসাইবাবা এবার তোতলামির হাসি হেসে কলকেটা গোপালকে দিয়ে বললেন-এবার পেসাদ টান বাবা। আমার শাস্তি হয়ে গেছে।

10. কাদের সাপ


গোপাল মাঝে মাঝে কারও না কারোর সঙ্গে নিজের বাড়ির দাওয়ায় বসে দাবা খেলতো। গোপালের সঙ্গে দাবা খেলার জ্ন্য প্রায়ই কেউ না কেউ দুই মাইল দূর থেকেও হেটে আসতেন। অন্ততঃ এক বাজি খেলতে না পারলে অথবা কারও সঙ্গে দাবায় হেরে গেলে গোপাল সে রাতে মোটেই ঘুমাতে পারতো না। সারারাত বিছানায় শুয়ে শুয়ে শুধু ছটফট করত। দাবা খেলায় ভীষণ নেশা গোপালের বলতে গেলে, দাবা খেলার সময় গোপাল বাহ্যজ্ঞানই হারিয়ে ফেলত। একদিন গোপাল দাবা খেলছিল, আর এক চাল দিলেই কিস্তিমাত হয় আর কি?
এমন সময় বাড়ি থেকে একটা চাকর ছুটে এসে খবর দিলে, বাবু তাড়াতাড়ি বাড়ি চলুন। কর্তা মাকে সাপে কামড়েছে। কর্তামা ভীষণ কষ্ট পাচ্ছেন। ডাক্তার আনতে হবে।
গোপাল তখন দাবার নেশায় এমনই মত্ত যে চাল দিতে দিতে চাকরকে বললে, কাদের সাপ? কার হুকুমে কর্তা মাকে কামড়াল? সাপটার বিরুদ্ধে রাজার দরবারে নালিশ ঠুকে দিয়ে, এখনি ছুটে চলে যা একটু পরেই আমি যাচ্ছি।
চাকর বেচারা কর্তাবাবুর কথা শুনে হ্য করে দাড়িয়ে রইল।


আশা করছি গল্প গুলো খুব ভালো লেগেছে। এরকম আরো অনেক গল্প পেতে আমাদের কে ফলো  করুন। ধন্যবাদ 🙏🙏|

Post a Comment

0 Comments